Amazing Facts about Kolkata in Bengali | কলকাতার মজাদার ও আকর্ষণীয় অবাক করা কিছু তথ্য বা ফ্যাক্ট

কলকাতার মজাদার ও আকর্ষণীয় ফ্যাক্ট 

কলকাতা আমাদের শহর। কলকাতার গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই অবগত। খুব দ্রুত উন্নত হচ্ছে আমাদের কলকাতা। সঙ্গে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার অতীত।

সবাই মনে করেন যে, তারা এই শহর সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে। কিন্তু আসলে প্রতি দশ কিলোমিটারের মধ্যে  আপনি নতুন কিছু আবিষ্কার করবেন, যা আপনাকে সঠিক অর্থেই অবাক করবে।

 City of joy বা আনন্দের শহর সাধারণ মানুষের দৃষ্টির বাইরে অনেক আশ্চর্য জিনিস  লুকিয়ে রেখেছে।যেগুলো আমরা দেখেও অনেক সময় গুরুত্ব দেইনা। যা আজ আপনার সঙ্গে আমরা ভাগ করে নেবো।

একজন বাঙালি হিসেবে গর্ব করার জন্য আপনার কাছে অনেক কিছুই আছে, আমি জানি। সেই তালিকায় আপনি কলকাতাকেও যোগ করে নিন।

আমরা আপনাদের কাছে 10 টি খুব কম জানা এক সময়কার ভারতের রাজধানী  কলকাতার কিছু ফ্যাক্ট  নিয়ে এসেছি  যা আপনার খুবই ভালো লাগবে।


তবে শুরু করার আগে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর নতুন পোস্ট বা আর্টিকেল এর ইমেইল নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন। ক্লিক করার পর আপনার নাম ও ইমেইল দিয়ে সাবমিট করে দেবেন


শুরু করছি কলকাতার  দশটি মজাদার ও আকর্ষণীয় ফ্যাক্ট, যা আপনাকে অবাক করবে।


1. লন্ডনের পর পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর কলকাতা !

হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়েছেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে আন্তর্জাতিক ভাবেই কলকাতা ছিল লন্ডনের পরে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। সঙ্গে অবশ্যই ভারতের তত্কালীন রাজধানী ও ছিল আমাদের কলকাতা। আর তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অনেকটা নিজেদের স্বার্থেই কলকাতায় তৈরী করেছিল  বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক শিল্প, রাস্তা-ঘাট এবং অন্যান্য বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আরো নানান আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র। 

আর এইভাবেই কলকাতা হয়ে উঠেছিল সেই সময়কার ভারতের প্রাণকেন্দ্র। ব্রিটিশ রাজের সময় ভারতের সমস্ত সংস্কৃতি, বাণিজ্য, বিকাশ সবকিছুই কলকাতা থেকে শুরু হতো। 

আপনি আরও পড়তে পারেন ঃ 10 টি কম্পিউটার স্কিল যা আপনার অবশ্যই জানা উচিত

2. বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাছ ! (The Largest Tree In The World)

যদি আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাছ কোথায় অবস্থিত? আপনি কি বলবেন ? 

আপনি অবশ্যই ট্রাই করে দেখতে পারেন   "The Great Banyan tree" বা বটগাছ বলে ।

যেটা কলকাতার বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থিত।

আপনি কি জানেন যে এই গাছ কত বছর পুরোনো ? মানে এই বটগাছের বয়স কত ?

 250 বছর ! 

ভাবা যায়! আনুমানিক প্রায় 250 বছর বয়সী  The Great Banyan tree পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাছ। 

আপনি যদি এখন কলকাতায় থাকেন,অবশ্যই আপনি ছায়াময় পথের মাঝে হেঁটে দেখতে পারেন। সুপ্রাচীন কাল থেকেই  এই গাছটি বাংলার ঐশ্বর্যের সাক্ষী হয়ে আসছে। এবং আরো বহু  যুগের সঙ্গী হবে  the great Banyan tree !

আপনি আরও পড়তে পারেন ঃ প্যারিসের দশটি মজাদার, আকর্ষণীয়, এবং অজানা দুর্দান্ত ফ্যাক্ট।

3.বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন পোলো ক্লাব (The Oldest Polo Club In The World)

বর্তমানে পোলোর জগতে ভারতের এমন নাম না থাকলেও একসময় পোলো খেলার জন্য আমাদের শহরের বেশ নাম ছিল। আর  আমাদের শহর কলকাতা থেকেই প্রথম শুরু হয়েছিল পোলো ।  

বিশ্বের প্রথম পোলো ক্লাবটি 1858 সালে কলকাতায় ব্রিটিশদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর থেকে খেলাটিকে আরও জনপ্রিয় করার জন্য এখানে অনেক প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়। 

কিন্তু পোলো সাধারণ মানুষের খেলা কখনোই হতে পারেনি। পোলো একটি  ইউরোপীয়দের খেলা, এমনই  মনোভাব সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যায়।এই খেলাটি বাংলার সব বড় বড় রাজ পরিবার ও নবাবদের মধ্যে বিশেষভাবে বিখ্যাত ছিল।

4. ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন চিড়িয়াখানা (india's oldest zoo)

1875 সালে স্থাপিত আমাদের কলকাতা চিড়িয়াখানা বা বলা ভালো আলিপুর চিড়িয়াখানা হলো ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন চিড়িয়াখানা। এখানে বনের নানান প্রজাতির পশুপাখির সঙ্গে আমাদের খুবই প্রিয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও আছে। 

আমি নিশ্চিত যে আপনি হয়তো জানতেন না আলিপুর চিড়িয়াখানা ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন চিড়িয়াখানা। যে চিড়িয়াখানা1875 সাল থেকে আমাদের সবাইকে আনন্দ দেবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

5. এশিয়ার সবথেকে বড় ও বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বই বাজার( Largest Book Market)

কলকাতার কথা হচ্ছে আর কলেজ স্ট্রিট এর বই এর কথা হবে না ? তাও কি হতে পারে। আমাদের অতি পরিচিত কলেজ স্ট্রিট বুক মার্কেট বা বই বাজার এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বই বাজার। এখানে আপনি প্রায় সকল ধরনের বই পাবেন। আরো মজার ব্যাপার আপনি পুরোনো বই ও কিনতে পারবেন। অনেক দোকান আছে যারা পুরোনো বই ক্রয় ও বিক্রয় করেন।

কলেজ স্ট্রিট সম্পর্কে  আপনার সঙ্গে একটা ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করি,  আমি একবার একটা বই কিনতে কলেজ স্ট্রিটের একটা বেশ বড় ধরনের দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার একজনের সঙ্গে দেখা হয়, যিনি একটি বই নিতে শিলিগুড়ি থেকে এখানে এসেছে। আমি কৌতহল বশত জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি নাকি সেই বইটি শিলিগুড়ির কোনো দোকানে পায়নি। কিন্তু তার এই বইটা চাই ই চাই। তাই তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। হাতে দুদিন সময় নিয়ে এসেছেন, একবারে কলকাতা ঘুরেও দেখতে চান তিনি। 

এর থেকে তো মোটামুটি নিশ্চিত যে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট বুক মার্কেট সত্যিই অনেক বড়। 

আর একটা কারন পাশেই ন্যাশনাল লাইব্রেরি যা ভারতের সবচেয়ে বড় ও  প্রাচীন পাবলিক লাইব্রেরি।

আপনি কি জানতেন ?

আপনি দেখে নিতে পারেন ভারতের সেরা দশটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের তালিকা

6.বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রাচীন ক্রিকেট ও ফুটবল ক্লাব ( Second Oldest Cricket & Football Club)

চলুন জেনে নিই কলকাতার ক্রিকেট ও ফুটবল সম্পর্কে কিছু মজাদার ফ্যাক্ট ।  বসার জায়গার দিক থেকে, ইডেন গার্ডেন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রিকেট মাঠ।  ক্যালকাটা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাব (CCFC) হল বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ক্রিকেট এবং ফুটবল ক্লাব সবচেয়ে জনপ্রিয় MCC-এর পরেই।

এর সাথে আর একটু যোগ করছি, কলকাতা ফুটবল লীগ 1898 সালে প্রথম উদ্বোধন করা হয়। সেই থেকেই এটি ভারতের প্রাচীনতম ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম। কলকাতা ফুটবল লীগ অনেক নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে ভারতের অনেক সাহায্য করেছিল। অন্তত সেই সময়ে দাড়িয়ে কলকাতা ফুটবল লীগ একটি ভালো উদ্যোগ ছিল।

আরো তথ্য প্রয়োজন?

তবে জেনে রাখুন, সল্টলেক স্টেডিয়াম বসার জায়গার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম মাঠ।

7.এমন একটি শহর যেখানে  ট্রাম এবং টাঙ্গা দুইটিই আছে ! ( The Only City To Have Trams & Tanga )

এশিয়ার প্রাচীনতম বৈদ্যুতিক ট্রাম মুম্বাই কিংবা  দিল্লিতে নয়, বরং  1902 সালে আমাদের কলকাতায় চালু করা হয়েছিল।  এবং সেই থেকে কলকাতার মন জয় করে শহর জুড়ে ঘুরতে থাকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী  ট্রাম। বহু বছর ধরে ট্রাম ব্যাবস্থা ভালো ব্যাবসা করতে পারছে না, তাই এখন কলকাতায় ট্রাম খুবই সীমিত পরিসরে চলে। কিন্তু আমাদের প্রিয়  ট্রাম এখনো কলকাতায় তার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অনুসন্ধান করছে । তবে এখন, পুরোনো ট্রামগুলিকে নতুন করে সংস্করণের মাধ্যমে সরকার  নতুন করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে যা ট্রাম সফর আরও উপভোগ্য এবং আরামদায়ক করে তুলবে বলেই মনে হয় । 

তাছাড়া শুধু ট্রাম নয়, কলকাতাই বিশ্বের একমাত্র শহর যেখানে আপনি হাতে টানা রিকশায় চড়তে পারেন।  ব্রিটিশ আমল থেকেই শহরের রাস্তায় চলছে হাতে টানা রিক্সা। এরা অতিরিক্ত টাকা চাইলেও আপনি একটু কলকাতার বাবুয়ানা ভাব দেখাতে একবার অন্তত চড়ে দেখতেই পারেন। মোটামুটি এক কিমি পথ যেতে আপনার 100 টাকা মতো খরচ করতে হতে পারে। কিন্তু সখের দাম লাখ টাকা।

আপনি আরও পড়তে পারেন ঃ স্টিফেন হকিং এর রোমাঞ্চকর অবিশ্বাস্য কিছু ভবিষ্যদ্বাণী ও থিওরি।

8.এশিয়ার বৃহত্তম প্ল্যানেটেরিয়াম! ( Largest Planetarium In Asia! )

কলকাতা সবসময়ই  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মঞ্চে নিজেকে এগিয়ে রাখে। সেটা অতীতের জগদীশ চন্দ্র বসু বা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় হোক বা বর্তমানের তরুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরাই হোক। 

বর্তমানে আমাদের কাছে এশিয়ার বৃহত্তম প্ল্যানেটেরিয়াম রয়েছে যা বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়াম নামে পরিচিত। বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়াম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তমও হতে পারে। 

1963 সালে নির্মিত, এই প্লানেটারিয়াম  তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু নিজেই উদ্বোধন করেছিলেন। 

আর একটু বলি, সায়েন্স সিটির নাম তো আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন ? সায়েন্স সিটি হল ভারতীয় উপমহাদেশে বিজ্ঞান ও  সংস্কৃতির বৃহত্তম কেন্দ্র।

9. The great Eastern hotel

যখন রুডইয়ার্ড কিপলিং (Rudyard Kipling) তার ছোট গল্প সিটি অফ ড্রেডফুল নাইট প্রকাশ করেন, তখন তিনি গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলকে the Jewel of east বলে উল্লেখ করেন।

গ্র্যান্ড হোটেলটি 1841 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তারপর সারা বিশ্ব থেকে লেখক, চিত্রশিল্পী, গভর্নর, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিবিদ, ভাস্কর, বিজ্ঞানী ইত্যাদি সহ সর্বাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবেশন করে আসছে।  

হোটেল তো লোকের আতিথেয়তাই করবে এতে ফ্যাক্ট কি হলো ? এটাই ভাবছেন তো ? 

ফ্যাক্ট হচ্ছে The Great Eastern Hotel ছিল এশিয়ার প্রথম হোটেল যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।

10.প্রাচীনতম এবং একমাত্র নদীবন্দর (Oldest And The Only Riverine Port )

ভারতীয় বন্দরগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য ভরা। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে স্বাধীনতার আগের সময় থেকেই ভারতের সমুদ্র ও নদী বন্দরগুলো সমৃদ্ধ ও মুক্ত হয়েছে। কিন্তু   এই সব সত্ত্বেও, খুব কম লোকই জানেন যে দেশের একমাত্র নদীবন্দর হুগলিতে রয়েছে যাকে আমরা  খিদিরপুর ডক বলি। যা ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন বন্দরও হতে পারে।

কেমন লাগলো আপনার আমাদের প্রতিবেদন ? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের facebook page ফলো করতে ভুলবেন না। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যদি আপনার ভালো লেগে থাকে। আর যেকোনো নতুন পোস্ট বা আর্টিকেল এর ইমেইল নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন। ক্লিক করার পর আপনার নাম ও ইমেইল দিয়ে সাবমিট করে দেবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ