ইন্টারনেট কি ? কিভাবে কাজ করে ইন্টারনেট ? ইন্টারনেটের ব্যবহার সুবিধা ও অসুবিধা

ভুমিকা


বর্তমান পৃথিবীতে ইন্টারনেট অক্সিজেনের মতই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কম্পিউটার, ওয়েব পেজ,  বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সার্ভার ইত্যাদি অনেক কিছু দ্বারা তৈরি ইন্টারনেট। এবং এটি ক্রমাগত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।


এক কথায় বলতে গেলে বর্তমানে ইন্টারনেট ছাড়া আপনি অনেক কিছুই করতে পারবেন না। 
যেমন আপনার গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল কাউকে পাঠাতে পারবেন না। 
বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করতে পারবেন না। 
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবেন না। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন না। ফটো, ভিডিও, গান কোনো কিছুই  আপনার ফোনে ইন্টারনেট ছাড়া সম্ভব নয়। এই প্রতিবেদনটিও আপনি ইন্টারনেটের সাহায্যে পড়তে পারছেন।

এক কথায় বলতে গেলে আপনাকে পুরো বিশ্ব থেকে আলাদা করে একটা ঘরে আটকে রাখার মত অবস্থা হবে ইন্টারনেট ছাড়া।

অনেকগুলো কম্পিউটার ও সার্ভার দ্বারা গঠিত ইন্টারনেট একটা কমিউনিকেশন মিডিয়াম হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত ইনফর্মেশন আদান-প্রদান করার মাধ্যম ইন্টারনেট।

এছাড়া এরকম হাজারো আরো সুবিধা ইন্টারনেটের আছে। সঙ্গে অবশ্যই কিছু অসুবিধাও আছে কিভাবে ব্যবহার করা হয় ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে এসবই জানবো আজকে আমরা এই প্রতিবেদনে।

শুরু করার আগে একটি নিবেদন আমাদের ফেসবুক পেজে ফলো করে আমাদের সাথে জুড়ে দেখতে ভুলবেন না। সঙ্গে  নতুন পোষ্টের ই-মেইল নোটিফিকেশন নিজের ফোনে পাওয়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ইন্টারনেট এর উৎপত্তি!


1960 সালে অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (Advanced Research Projects Agency)
বা ARPANET সর্বপ্রথম অনেকগুলো কম্পিউটার একসাথে জোড়া দিয়ে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করে,  ইন্টারনেটের কনসেপ্ট মানুষের সামনে এনেছিল। এর মাধ্যমে অনেকগুলো কম্পিউটার একসাথে  নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করছিল সেই সময় এটা একটা বড় সাফল্য ছিল।
ARPANET প্যাকেট সুইচিং নামের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল সেইসময়। তাদের এই নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য । তারপর অক্টোবর 1969 সালে ARPANET পৃথিবীতে সর্বপ্রথম এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে মেসেজ পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল। আর তারপর থেকে কম্পিউটারের এবং ইন্টারনেটের প্রযুক্তির উন্নতি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। আপনই বলুন, আজ থেকে 10 বছর আগে ইন্টারনেটের প্রসার ও ক্ষমতা যা ছিল, তার থেকে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বর্তমান সময়কালে।  

ইন্টারনেট কিভাবে তৈরি করে ?


আসলে ইন্টারনেট বলতে একটি ডিভাইস  থেকে অন্য আর একটি ডিভাইসে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম কে বলা হয়।


আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা যা আদান প্রদান (আপলোড , ডাউনলোড) করি সেগুলি হলো ডেটা বা তথ্য। ডেটা কিভাবে তৈরি করা হয় আপনি নিশ্চয়ই জানেন। আপনি একটি সুন্দর ফুলের ছবি তুললেন, এটা আপনার ডেটা।

আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেটা ফেসবুকে শেয়ার করছেন এই শেয়ার করার মাধ্যমটির নাম ইন্টারনেট।

তো ইন্টারনেট বা আন্তজাল তৈরি করার জন্য প্রয়োজন হয় একটি সার্ভারের, যা বানাতে ব্যবহার করা হয় অপটিক্যাল ফাইবার তার এর।
 
অপটিক্যাল ফাইবার তার সমুদ্রের নিচ থেকে এক দেশ থেকে অন্য দেশ পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকে এবং বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের সাথে যুক্ত থাকে এতে একটি সার্ভার আরেকটি সার্ভারের সাথে সব সময় যুক্ত হয়ে থাকে। ও আমরা নিমেষেই পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আর একপ্রান্তে বিভিন্ন তথ্য নিমেষেই পেয়ে যাই।

 ইন্টারনেটের সেট আপ করতে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ছাড়াও দরকার ডেটা ট্রান্সমিশনার বিভিন্ন স্টোরেজ স্টিস্টেম ও কিছু নেটওয়ার্কিং যেমন LAN, WAN, MAN, ইত্যাদি। ইন্টারনেট ব্যবহার করতে তারের উপর নির্ভর করতেই হয়। প্রধান উপকরণই হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল। সেটা আপনি যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন না কেন ! 

2g, 3g 4g wifi যাই ব্যবহার করুন, ডেটা কিন্তু ওই অপটিক্যাল ফাইবারের তারের মধ্যে দিয়েই আদানপ্রদান হয়।

আপনি আরও পড়তে পারেন রাত জাগার ক্ষতিকর দিকসমূহ

ইন্টারনেটের মালিক কে ? 


আপনার এখনো কিছুটা ঘোলাটে লাগছে? 

 আমি জানি। আপনি ভাবছেন ইন্টারনেট কার সম্পত্তি?  কে চালাচ্ছে এতো বড় কর্মকান্ড? Google, Facebook এরা কি ইন্টারনেটের মালিক ? উত্তর না।

আমেরিকার একটি ননপ্রফিট কম্পানি আছে।  নাম ICANN (Internet Corporation for Assigned Names and Numbers) এরা হলো ইন্টারনেটের প্রকৃত কতৃপক্ষ।


মনে আছে আমরা শুরুতে ARPANET এর কথা বলেছিলাম, সেই টিমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করতো জন পিসটল (Jonathan Bruce Postel) নামের এক কম্পিউটার সাইন্টিস ইঞ্জিনিয়ার।

 সেই ব্যক্তিই 1998 সালে ICANN প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তিনি তার সংস্থাকে একটি ননপ্রফিট কম্পানি হিসেবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

আপনি জেনে অবাক হবেন IP ADDRESS যা ছাড়া আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না। সেই IP ADDRESS পুরো পৃথিবীতে ICANN এর অধীন। মানে ICANN পুরো পৃথিবীর IP ADDRESS পরিচালনা করে।


আরো অবাক করা ব্যাপার হলো,  আপনি পৃথিবীর  যে কোনো ওয়েবসাইটে যান না কেনো সেটা Facebook.com হতে পারে। Google.com হতে পারে। বা fanfact.in হতে পারে কিন্তু এই নাম গুলোও ICANN এর অধীন। এই নামগুলোকে domain name বলে। যা ব্যবহার করতে বার্ষিক ফি দিতে হয় প্রত্যেক ওয়েবসাইট মালিক বা কর্তৃপক্ষকে।

 আমরা যে domain name উদাহরণ হিসেবে বলেছি, সেগুলি TLDs বা Top Level Domain সেগুলিও এদের অধীন। 


সঙ্গে অবশ্যই যে দেশ থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে,  সেই দেশের সরকারের অনুমতি থাকা বাধ্যতামুলক
। সরকারের অনুমতি ছাড়া  আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই সরকারের দ্বারা বৈধতাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

IP ADDRESS কি ?


হ্যাঁ আমরা জানি আপনার এখন মনে জাগছে যে, IP ADDRESS টা আবার কি ? আপনি হয়তো আগেও শুনেছেন IP ADDRESS এর বিষয়ে।  কিন্তু আপনি বিস্তারিত কিছুই জানেন না। চলুন আপনাকে IP address সমন্ধে যতটা সহজে বিস্তারিত বলা যায়, বলার চেষ্টা করছি।

IP address এর পুরো নাম internet protocol address. পৃথিবীর যে কোনো কম্পিউটার, মোবাইল এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় এরকম সব জিনিসের থাকে এক বা একাধিক IP address এবং এই IP address পরিবর্তন হতে থাকে ও ISP's (the Internet Service Providers) দ্বারা সরবরাহ করা হয়। সঙ্গে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন তো থাকবেই।

যেমন একজন মানুষের জন্য সরকারি আইডেন্টিটি কার্ড থাকে , ঠিক তেমনই কম্পিউটার ও মোবাইলের কানেকশনের থাকে একটা IP address। IP address কে আপনি আপনার আধার কার্ড বা প্যান কার্ডের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন।

আপনি দেখে নিতে পারেন ভারতের সেরা দশটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের তালিকা

একটা IP address অন্যটা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়। মানে এক এবং অদ্বিতীয়। যেমন আপনার আধার কার্ড এক এবং অদ্বিতীয়। IP address গুরুত্বপূর্ণ কারন, IP এর সাহায্য কোন ডিভাইস তা সনাক্ত করা হয়। এবং কে ব্যবহার করছে কোথা থেকে এগুলোও সনাক্ত করা হয়। ইন্টারনেট টেকনোলজির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে এই IP address। 
IP address দেখতে অনেকটা এরকম 250.250.250.250 দেখতে হয় । এই নম্বরগুলি শূন্য থেকে দুইশো পঞ্চান্নের মধ্য থাকে।

আপনি আপনার IP address দেখতে এখানে ক্লিক করুন

IPv4 ও  IPv6 এর মধ্যে পার্থক্য ?

সেই অর্থে দেখতে গেলে Ipv4 ও Ipv6 এর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই । 
বিভিন্ন ধরনের IP address বর্তমানে উপলব্ধ।
 যেমন:

  • Static IP address
  • Dynamic IP address
  • Private IP address
  • Public IP address
ইত্যাদি। 

IPV6 কিছু ক্ষেত্রে  সামান্য একটু বেশি গতিশীল হয়। আর একটা পার্থক্য হচ্ছে IPV4 32bit আর IPV6 128bit হয়। 

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে ?


তো এতক্ষণ ধরে আমরা ইন্টারনেট কি সেটা জানলাম। এবার আমরা জানবো ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে ? 

ইন্টারনেটের আসল কাজ কিন্তু করে বিভিন্ন সার্ভার ও আপনার মতো অসংখ্য  গ্রাহক যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। 

আপনি আরও পড়ুন :-  উইকিপিডিয়ার ইতিহাস ও ফ্যাক্ট

এখানে উপভোক্তা  হল একটি মোবাইল বা কম্পিউটার, যা সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত এবং সার্ভার হল ইন্টারনেটের সাথে পরোক্ষভাবে সংযুক্ত কম্পিউটার। সেই সাথে ওয়েবসাইট গুলি হোস্টিং নামের সুপার কম্পিউটারেরর সঙ্গে যুক্ত ও সংরক্ষিত। এই সার্ভারগুলি আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) এর সাহায্যে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত এবং আইপি ঠিকানা দিয়ে সনাক্ত করা হবে। প্রতিটি ওয়েবসাইটের ডোমেন নাম থাকে। যেমন Www.fanfact.in কারণ যেকোনো ব্যক্তির পক্ষে সবসময় অনেক বড় সংখ্যা মনে রাখা সম্ভব নয় । সুতরাং, আপনি যখনই ব্রাউজারের সার্চ বারে কোনো ডোমেইন নাম অনুসন্ধান করবেন সার্ভারে অনুরোধ পাঠানো হবে। এবং সেই সার্ভারটি ডোমেন নাম থেকে IP address খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। কারণ সার্ভার  ডোমেন নাম বুঝতে পারে না।  আইপি ঠিকানা পাওয়ার পর সার্ভার একটি বিশাল ডিরেক্টরিতে ডোমেন নামের আইপি ঠিকানা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করবে। যা নেটওয়ার্কিংয়ে একটি DNS server (domain name server) নামে পরিচিত।  

আইপি পাওয়ার পর ব্রাউজারটি সংশ্লিষ্ট সার্ভারের কাছে আবার অনুরোধ পাঠাবে এবং এবার সার্ভারটি গ্রাহকের যে ওয়েবসাইটটি চাই তার বিষয়বস্তু প্রদর্শনের অনুরোধের প্রক্রিয়া শুরু করবে। 

খুবই প্যাঁচালো ব্যাপার তাই না। আপনার ফোনে ব্যাকএন্ডে এতো কিছু হয় আপনি হয়তো জানতেন না।

সহজ কথায় বোঝাচ্ছি দারান,  আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য  3G বা 4G বা অন্য যে কোনো মোবাইল ডেটা ব্যবহার করেন, তখন আপনার ফোন থেকে একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের মাধ্যমে সিগনাল মোবাইল টাওয়ারে পৌচ্ছোয়, সেখান থেকে সব থেকে কাছের ডেটা সেন্টারে, সেখান থেকে IP বের করে মুখ্য ডেটা সেন্টারে, সেখান থেকে আপনার অনুরোধ অনুযায়ী ডেটা আবার মুখ্য ডেটা সেন্টার থেকে আপনার কাছের ডেটা সেন্টারে সেখান থেকে আবার আপনার কাছের মোবাইল টাওয়ারে ও শেষে আপনার মোবাইলে সেই ডেটা উপস্থাপন করা হয়। 

আর যদি রাউটার ব্যবহার করেন, তবে আপনার কম্পিউটার থেকে তারের মাধ্যমে এই কাজ গুলি সম্পন্ন হয়। 

আপনি আরও পড়তে পারেন ঃ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যা করলে খুব দ্রুত ফর্সা ও সুন্দর হবেন

ইন্টারনেটের ব্যবহার 


সাধারণ মানুষ ইন্টারনেটের কি কি ব্যবহার করতে পারে! সেটা আর নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না, যে ইন্টারনেট আমরা কি কি কাজে ব্যবহার করতে পারি তবুও আমরা পাঁচটি প্রধান ইন্টারনেট ব্যবহার নিচে বলছি।

1. ই কমাস: সবার প্রথম ই-কমার্স এর কথা আমাদের মাথায় আসার কারণ, ই-কমার্স আমাদের ইকোনমিতে নতুন কর্মসংস্থানের যোগান দিয়েছে। যেভাবে ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজন মিন্ত্রা ইত্যাদি ই-কমার্স সাইট গুলি বেড়ে উঠছে, সঙ্গে সঙ্গে তারা তৈরি করছে বিভিন্ন কর্মসংস্থান। সস্তায় গ্রাহককে দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অফার আর সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন বিক্রি করার জন্য একটা নতুন মার্কেটপ্লেস।

 সবই হচ্ছে ইন্টারনেট কল্যাণে আপনি দেখে নিতে পারেন ভারতের সেরা দশটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের তালিকা

2. বিনোদন: শেষমেষ, দিনশেষে লোকে বিনোদনের জন্যই কিন্তু ইন্টারনেট অন করে। ইউটিউবে সব থেকে বেশি যে বিষয়ের উপরে ভিডিও মানুষ দেখতে পছন্দ করে তা হলো বিনোদন। তাছাড়া সারাদিনের কাজকর্ম পর নিজের মনের শান্তির জন্য একটু বিনোদন কিন্তু খারাপ কিছু নয়। অনলাইন গেম খেলা, ভিডিও দেখা, গান শোনা, কোন কিছু শেয়ার করা , নতুন কোনো কিছু পড়া যেমন আপনি এখানে পড়ছেন।অনলাইনের মাধ্যমে অনেক রকম পন্থা আছে নিজেকে আনন্দ দেয়ার। আর অনলাইনে সবথেকে বড় যে সুবিধাটি পাওয়া যায় সেটি হলো আপনি যা দেখতে চান আপনাকে তাই দেখানো হয়। এই কারণে বেশিরভাগ মানুষ ধীরে ধীরে অনলাইন বিনোদনের দিকে ঝুকে যাচ্ছে আর এটা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সম্ভব

3. পড়াশোনা: করোনাকালে সবাই অনলাইনে পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। স্কুল-কলেজ বিভিন্ন ইনস্টিটিউট যখন করোনার কারণে বন্ধ হয়ে পড়েছিল তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একমাত্র ভরসা ছিল অনলাইন এডুকেশন। তা বাদে আজকাল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ইউটিউব বা অন্যান্য জায়গা থেকে দেখে নিজে নিজে অনেক কিছুতেই পারদর্শী হয়ে যেতে পারে। সত্যি কথা বলতে এখনকার সময়ে কোন কিছু শেখার আর কোন বাধা নেই। ইচ্ছা থাকলেই এখন যেকোন কিছুই শেখা সম্ভব। আর এটা সম্ভব শুধুমাত্র ইন্টারনেটের কল্যাণে। ইন্টারনেট না থাকলে অনলাইন এডুকেশন নামের কোন শব্দই হয়তো তৈরি হতো না।

4. ক্যাশলেস ট্রানজাকশন: আজ থেকে কয়েক বছর আগে ইউপিআই পেমেন্ট গেটওয়ে বা পেটিএম গুগোল পের মত অ্যাপ কোথায় ছিল? প্রতিবছর 50 শতাংশ হারে ক্রমাগত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম প্রসারিত হচ্ছে। এখন ভারতের অলিতে-গলিতে দোকানে দোকানে কিউআর কোড লাগানো থাকে। গ্রাহকেরা কিউআর কোড স্ক্যান করে তাদের কাঙ্ক্ষিত পয়সা মিটিয়ে দিতে পারে দোকানদারের সাথে। সবই কিন্তু হচ্ছে ইন্টারনেটের কল্যাণে।

5. সোশ্যাল মিডিয়া: কিছু লোক হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ার নিন্দা করতে পারে, কিছু লোক হয়তো বলবে সোস্যাল মিডিয়া সমাজে শুধুমাত্র নেতিবাচক চিন্তা ভাবনাই ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু আসলে সোশ্যাল মিডিয়া একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আপনাকে শূন্য থেকে শুরু করে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া। আপনাকে রাতারাতি সেলিব্রেটিতে তৈরি করে দিতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া । অনেক দিনের পুরনো বন্ধুর সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যেতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নতুন কোন বন্ধুর সাথে পরিচয় করতে পারেন এই সোশ্যাল মিডিয়াতে। সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার করলে সোশ্যাল মিডিয়া কোন ভাবে খারাপ নয় বরঞ্চ একটি উন্নতির খুব বড় অস্ত্র যা আপনাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে প্রচুর সাহায্য করবে। আর সোশ্যাল মিডিয়া চলে ইন্টারনেটের সাহায্যে তাই আপনাকে ইন্টারনেট ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির একবার ধন্যবাদ জানানো উচিত কারন ইন্টারনেট না থাকলে সোশ্যাল মিডিয়া ও থাকতো না।

এছাড়া আরো হাজারো ব্যবহার রয়েছে ইন্টারনেটের যা লিখতে গেলে রাত শেষ হয়ে যাবে। আরো কি কি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে যা আমরা মিস করছি কমেন্টে জানান।

আমাদের facebook page ফলো করতে ভুলবেন না। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যদি আপনার ভালো লেগে থাকে। আর যেকোনো নতুন পোস্ট বা আর্টিকেল এর ইমেইল নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন। ক্লিক করার পর আপনার নাম ও ইমেইল দিয়ে সাবমিট করে দেবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ