অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে কি করবেন? | otp কি ? 2 step varification details


OTP এর ধারনা।

আপনার বাড়ি সুরক্ষিত রাখতে যেমন আপনি তালা ব্যবহার করেন, কখনো কখনো একাধিক তালা ব্যবহার করেন,  সঠিক চাবি ছাড়া সেই তালা কখনোই খোলা যাবে না এবং তালা খুলে ভিতরে জিনিসও দেখা বা ব্যবহার করা যাবে না। এটাই তো আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে তালা দেওয়ার ? 

ওটিপি অনেকটা সেই রকমই। 

অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে কি করবেন?

বাড়িসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের সুরক্ষার জন্য যেরকম আপনি হাজার হাজার টাকা খরচ করেন, তেমনি অনলাইন একাউন্টের সুরক্ষার জন্য ওটিপি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

অনলাইন একাউন্টে লগইন করার জন্য আমরা সচরাচর ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি। বর্তমান যুগে খুব সহজেই হ্যাকাররা যে কোন অনলাইন একাউন্টের পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে পারে। একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে অন্যান্য অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক হওয়া সম্ভাবনা থেকে যায়। 

মনে করুন আপনি ট্রেনের টিকিট বুক করার জন্য একটি অ্যাপের সাহায্য নিলেন। আর সেই অ্যাপে লগ ইন করার জন্য একটি সহজ পাসওয়ার্ড রাখলেন। আপনার মনে রাখার সুবিধার্থে আপনি সেই পাসওয়ার্ড অন্যান্য জায়গা যেমন, facebook, google ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং একাউন্টে ব্যবহার করা শুরু করে দিলেন।

আপনি কি জানেন? যদি আপনার এই চার পাঁচটি একাউন্টের মধ্যে একটিও হ্যাক হয়, তাহলে বাকিগুলো হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

আর একবার যদি আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের কাছে চলে যায়, তাহলে আপনার ফেসবুক, গুগল ও ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টাও চালাবে হ্যাকাররা।

তাই সব একাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। কিন্তু আপনি জানলেও অনেকেই এই বিষয়ে জানেন না। আর তারা একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করতে থাকে।

সে কারণেই খুব সুরক্ষিত এবং সেনসিটিভ জায়গায় বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে টু স্টেপ অথেন্টিকেশন। টু স্টেপ অথেন্টিকেশনে মানে, আপনি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরও আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে এবং ওই ম্যাসেজে একটি ওটিপি থাকবে, সেই ওটিপি দেওয়ার পরেই আপনি লগইন করতে পারবেন।

টু স্টেপ অথেন্টিকেশন কি ?

টু স্টেপ অথেন্টিকেশনকে অনেক সময়  টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনও বলা হয়। আপনার অনলাইনের একাউন্টের দ্বিতীয় তালা হিসেবে কাজ করে টু স্টেপ অথেন্টিকেশন। 

আর এই তালার চাবি সাময়িকভাবে তৈরি করা হয়। এবং কিছু সময় পর সেই যাবি নষ্ট হয়ে যায়। আবার নতুন একটা চাবি তৈরি করা হয়। হ্যাঁ  আমি ওটিপির কথাই বলছি।

তবে ওটিপি ছাড়া অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে টু স্টেপ অথেন্টেনিকেশন ব্যবহার করা সম্ভব এবং আপনার অনলাইনে একাউন্ট আরো বেশি সুরক্ষিত করা সম্ভব।

ওটিপি কি ?

ওটিপির পুরো অর্থ ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড । এবং ওটিপি হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় অথেন্টিকেশন পদ্ধতি। আর আপনি  নাম থেকে  নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, এই পাসওয়ার্ড একবারে বেশি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। 

লগইন করার সময় অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক থাকা মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস যায়, এবং সেই এসএমএসের ভিতরে থাকে চার থেকে ছটি সংখ্যা বা ডিজিট। সেই সংখ্যাটি ওয়েবসাইটের দেয়ার পরই আপনি লগইন করতে পারবেন। যতই আপনার পাসওয়ার্ড সঠিক হোক না কেন।

এটাকেই বলা হয় ওটিভির শক্তি। ওটিপি অন্য জায়গায় ও ব্যবহার করা হয় যেমন ব্যাংকিং সাইডে। ব্যাংকিং সাইডে আপনার ট্রানজাকশন কমপ্লিট করার জন্য ওটিপি ব্যবহার করা হয়। 

আর ওটিপিকে  সহজভাবে নেয়া উচিত নয়। আপনি হয়তো ওটিপি কাউকে দিয়ে দিলেন, কিন্তু ওটিপি ভেলিটি যে ১০-১৫ মিনিট থাকে সেই ১০ ১৫ মিনিটের মধ্যেই সেই ব্যক্তি হয়তো ওটিপির সদ্বব্যাবহার করে দিতে পারে। তাই ওটিপি কারো সাথে শেয়ার করা কোনো ভাবেই উচিত নয়। 

আপনার ফোনে ওই ছয় ডিজিট ওটিপি হ্যাকারের পক্ষে জানা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই আপনার অ্যাকাউন্ট থাকবে সবসময় সুরক্ষিত।

অথেন্টিকেটর অ্যাপ কি ?

মোবাইলে ওটিপি ছাড়াও টু স্টেপ ভেরিফিকেশন বা টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করা সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম অথেন্টিকেটর অ্যাপ হলো গুগল অথেন্টিকেটর যা আপনি ডাউনলোড করে আপনার একাধিক অ্যাকাউন্টে ২ ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করতে পারেন। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুটোতেই এই অ্যাপ আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্যাকআপ কোডের ব্যবহার !

উপরের সব পদ্ধতি প্রযুক্তির সাহায্যে চলে। ওটিপি'র জন্য মোবাইল প্রয়োজন, অথেন্টিকেশনের জন্য মোবাইল প্রয়োজন। কিন্তু যদি আপনি এমন কোন পরিস্থিতি সম্মুখীন হন যেখানে কোন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভব না কিন্তু তবুও টু ফ্যাক্টর অথেন্টিফিকেশন আপনার ব্যবহার করা উচিত। 

 তার জন্য আপনি কি করবেন?

আপনি পুরনো দিনের খাতা পেনে আবার ফিরে যান। একসঙ্গে ১০ থেকে ২০ টি পাসওয়ার্ড তৈরি করুন এবং খাতায় লিখে রাখুন। প্রত্যেকটি পাসওয়ার্ড একবার করে ব্যবহার করবেন আর দ্বিতীয়বার ওই পাসওয়ার্ডটি ব্যবহার করা যাবে না। আপনার খাতার পাসওয়ার্ড গুলি সব কটা ব্যবহার হয়ে গেলে নতুন করে পাসওয়ার্ড লিখতে হবে । এবং যে কাগজে আপনি ওটা লিখবেন সেটি রাখতে হবে খুবই সুরক্ষিত পাবে। এভাবে আপনি প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াই নিজের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট খুবই সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। আর যদি আপনি বার বার আপনার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তা হলেও আপনি আপনার খাতার পাসওয়ার্ড লিখে রাখতে পারেন। কিন্ত মনে রাখবেন পাসওয়ার্ড লেখা সেই খাতা যেন খুবই সুরক্ষিত জায়গাতেই থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ