কিভাবে নিজেকে স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে মুক্ত করবেন ? | how do I recover myself from Smartphone addiction ?

কিভাবে নিজেকে স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে মুক্ত করবেন ?

সারাদিন ফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কি আপনি বসে থাকেন ? কখনো কখনো সময়ের খেয়াল ই থাকে না ! অনেকে ফেসবুক স্ক্রল করেই যাচ্ছেন, এদিকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ নষ্ট হচ্ছে । তার দিকে কোনো নজরই নেই বা কখনো নেগেটিভ নিউজ পড়ছেন মনের আনন্দে। হয়তো ভেবেছিলেন স্ট্যাটাস টা দেখেই আবার কাজে মন দেবেন, কিন্তু কখন যে সময় পেরিয়ে গেছে আপনি খেয়ালই করেননি। রাতে ঘুম আসছে না একটু ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন ভাবছেন, কখন যে রাত গভীর হয়ে গেছে আপনি নিজেও বুঝতে পারেননি। 

এগুলি খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জীবনে। কখনো কোনো চেনা মানুষের মৃত্যু ফেসবুকে দেখে মন খারাপ হয়েছে । কখনো নিজের পরিবারকে নিয়েও চিন্তা বেড়েছে।  আর তারপর করোনার প্রত্যেকদিন লাইভ স্কোর ! এইসব দেখেও আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। 

মানসিকভাবে আমরা বেশিরভাগ লোকই খুবই বিপদজনক অবস্থানে আছি। চিকিৎসকরা এইসব প্রবণতাকে " ডুমস্  স্ক্রোলিং " নামে আখ্যায়িত করেছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবশ্য ডুমস্ স্ক্রোলিং শব্দটি নতুন। সর্বপ্রথম 2018 সালে এই শব্দটি টুইটারে একবার দেখা যায়। তারপর 2019 সালের করোনা অতিমারিতে শব্দটি হয়ে যায় জনপ্রিয়। চিকিৎসকরা বলছেন ডুমস্ স্ক্রোলিং এর কারনে মানুষের খারাপ থাকার প্রবণতা অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে, সঙ্গে বাড়ছে ডিপ্রেশনও।

মানুষের মস্তিষ্কের সেরাটনিন নামক একটি হরমোন মানুষের মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে।  ডুমস্ স্ক্রোলিং  এর কারনে মানুষের উদ্বেগ এবং বিষন্নতার ভারসাম্য রক্ষা করার এই উপাদান যাকে আমরা সেরাটনিন বলছি, সেটা  কমতে থাকে। আর মানুষ ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনে চলে যায়।

আপনি কি জানেন ?  পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ দুঃখের গান শুনেও মানুষের দেহের সেরাটনিমের মাত্রা অনেকখানি কমিয়ে ফেলা সম্ভব। আর এই সেরাটনিন মানুষের ভালো থাকার উপলব্ধি তৈরি করে।

স্বাস্থ্যের উপর ডুমস্ স্ক্রোলিং এর প্রভাব কি ?

আপনার আশেপাশে অনেকেই দেখবেন, যারা তাদের চার পাশের বিষয়ে একেবারেই উদাসীন হয়ে একটানা নিজের ফোন দেখে যাচ্ছে মনের আনন্দে।

এই কাজ দেখতে সাধারণ মনে হলেও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে। আর এইভাবে একটানা ফোন দেখার কারণে মানুষের উদ্বেগ বিষন্নতা ও আতঙ্কের উদ্বেগ হয়।  এবং স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, স্নায়ুতন্ত্রের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ডুমস্ স্ক্রোলিং এর কারনে অনেকের স্মৃতিশক্তি ও লোপ পেতে শুরু করে, 

তবে চিকিৎসকরা মনে করে ফোনের আসক্তির কারণে শুধু যে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয় তাই নয়, শারীরিকভাবেও আপনার ক্ষতি হতে পারে । অনেক সময় ধরে ফোন দেখার কারণে আপনার ঘাড়ে স্পন্ডেলাইসিস এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া গা হাত পা ব্যথা তো হতেই পারে। কারণ আপনার ফোন আপনি একই ভাবে ধরে থাকেন অনেকক্ষণ।

ভারতে ফোরজি আসার পর কার্পাল টানেল সিনড্রোম এর মত নার্ভের সমস্যা সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও স্থূলতার সমস্যা  উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। 

সঙ্গে  মস্তিষ্কের টিউমার হওয়ার গ্রাফ ও উর্ধ্বমুখী। 

আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার ফোনে আসক্তি আছে ?

  • যদি আপনি যে কোন জায়গায় যাওয়ার সময় গাড়িতে বা ট্রেনে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক রিল, বিভিন্ন ভিডিও,  খবর অনবরত দেখতেই থাকেন। 
  • নিজেকে পরের ভিডিও বা খবর দেখা থেকে আটকে রাখতে না পারেন 
  • 10 মিনিট মনে করে ঘন্টা পার করে দেওয়া

এই রকম লক্ষণ দেখা যায় তাহলে মনে করবেন আপনার ফোনে আসক্তি আছে এবং নিজেকে আটকানোর এবং শাসন করার সময় এসে গেছে।

কি করবেন এবং কিভাবে নিজেকে শুধরাবেন নিচে দিচ্ছি।

১. সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন ধরবেন না।

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকেরই একটা স্বভাব আছে যে, আমরা রাত্রিবেলা ফোন আমাদের মাথার কাছে নিয়ে শুই এবং সকাল হতেই সবার প্রথম চোখ খুলে আমরা আমাদের ফোনটা হাতে তুলে নিই।  তারপর শুরু হয় আমাদের ক্রমাগত সময় নষ্ট করার পালা।

এই অভ্যাস থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলুন। সকালে একটু সময় নিজের সঙ্গে কাটান,  হাটতে যান বা একটু ধ্যান করতে পারেন। সামান্য ট্রেচিং বা ব্যায়াম ও করতে পারেন।

২. কখনো কখনো ফোন ছাড়াই ঘুরতে চলে যান।

এটা আমি করি, এবং আমি খুব ভালো ফলও পাচ্ছি। ফোন আমাদের জন্য খুবই দরকারী। অনেক উপকার হয় ফোন দিয়ে। এই কারণেই ফোনের আবিষ্কার হয়েছে কিন্তু কখনো কখনো ফোন ছাড়া ঘুরতে চলে যান, দেখবেন তার মজাই আলাদা। যদি সম্ভব হয় অচেনা জায়গায় যাবেন।

 হ্যাঁ প্রথম প্রথম হয়তো আপনার একটু কেমন যেন লাগবে, পকেটটা খালি খালি লাগবে। বা মনে হবে কি যেন নেই কি যেন নেই কিন্তু পরে খুব মজা লাগবে। 

আপনি যে জায়গাটায় যাবেন আপনার পুরো ফোকাস তখন সেই জায়গার উপরেই থাকবে, আপনার ফোনের দিকে থাকবে না। 

অনেক সময় দেখা যায় আমরা অনেক কষ্ট করে সময় বের করে কোন এক জায়গায় ঘুরতে গেলাম, আর সেখানে গিয়ে  আমরা ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার  করেই যাচ্ছি বিনা কারণে। এর তো কোন মানে নেই তাই না ?

৩. বই পড়া আরম্ভ করুন।

প্রথমে দৈনিক দশ মিনিট দিয়ে শুরু করুন, তারপর এটাও অনেকটা ফোনের মতই কখন যে আপনার দু ঘন্টায় পৌঁছে যাবে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না। আর যদি আপনার বইয়ের নেশা থাকে তাহলে ফোনের নেশা কিছুই না । 

কিন্তু হ্যাঁ আপনার যে বিষয়ে পড়তে ইচ্ছা করে সেটাই পড়বেন। না হলে অনেকটা ইতিহাস বইয়ের মত হয়ে যাবে। হাতে নেওয়ার সাথে সাথে ঘুম চলে আসবে।

৪. ফোন দেখার একটা নির্দিষ্ট সময় সেট করুন।

আমি আগেও বলেছি, ফোন আমাদের জীবনে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফোন ছাড়া আমাদের জীবন প্রায় অচল। অনেক কাজই ফোন ছাড়া আটকে যাবে ।

 কিন্তু তবুও আপনি ঠিক মনে করে দেখুন তো আপনি কত সময় সারাদিনে ফোনে কাজ করেন ?  আর কত সময় অকাজ করেন ? তাই ফোন দেখার একটি নির্দিষ্ট সময় তৈরি করুন। 

আর তাছাড়া প্রত্যেকের জীবনেই একটু বিনোদনের দরকার। তাই যদি আপনার নির্দিষ্ট সময় বাঁধা থাকে তাহলে আপনি সেই সময়টুকুতেই আপনার নিজের জন্য একটু বিনোদন খুঁজে নিতে পারবেন।

৫. কিছু ভালো এবং নতুন অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ভালো অভ্যাস অনেক রকম হতে পারে, যেমন গল্প লেখা , কবিতা লেখা, বই পড়া, ছবি আঁকা আপনি ছবিও তুলতে পারেন।

 বা কোনো পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা করা।

আপনি চাইলে আপনার ফাঁকা সময় আমাদের এখানেও লিখতে পারেন। এই মুহূর্তে আমরা আপনাকে কোন পারিশ্রমিক দেব না অবশ্য।  কিন্তু চেষ্টা করে দেখতে পারেন এতে আপনার মনও ভালো থাকবে সঙ্গে আপনি নতুন কিছু শিখতেও পারবেন।  যা আপনার পরবর্তীকালে খুবই কাজে লাগবে।

আমাদের কাছে লেখা পাঠান contact@fanfact.in ইমেল এ।

কেমন লাগলো আপনার আমাদের প্রতিবেদন ? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের facebook page ফলো করতে ভুলবেন না। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যদি আপনার ভালো লেগে থাকে। আর যেকোনো নতুন পোস্ট বা আর্টিকেল এর ইমেইল নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন। ক্লিক করার পর আপনার নাম ও ইমেইল দিয়ে সাবমিট করে দেবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ