গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার ১০ টি সহজ ও ঘরোয়া উপায়

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার ১০ টি সহজ ও ঘরোয়া  উপায় ? 


দোকানে যাবেন, দেখতে পাবেন একই কোম্পানির অনেক গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ পেয়ে যাবেন আপনি। খোঁজ নিয়ে জানুন সারা দেশে যে পরিমাণ অ্যাসিডিটির ওষুধ আছে, সব রোগ মিলিয়েও হয়তো তত ওষুধ হয় না ।

তাই ওষুধের উপর নির্ভরশীল না হয়ে খাবারের দিকে মনোযোগী হোন । যে খাবার গ্যাস্ট্রিক দূর করে সেই খাবার খাবারের তালিকায় রাখুন।

খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম অথবা অস্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়ার কারণে অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন। এটি একটি খুবই পরিচিত সমস্যা।

ভাজাপোড়া বা অধিক তেল মসলাযুক্ত খাবার খেলে কারোর কারোর এই সমস্যাটি মারাত্মক রূপ ধারণ করে । অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুরু হলে ওষুধ খেয়ে নেয়, 

কিন্তু অন্ন কোনো ঘরোয়া উপায় আছে কিনা সেই দিকে নজরই দেয়না।

আজ আমরা সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করব ।


আসুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে ঘরোয়া উপায় আপনি আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে পারবেন।

1.আনারস

নারসে রয়েছে ৮৫ % জল ও ব্রোমেলিন নামক এনজাইম যা হজমে অত্যন্ত কার্যকরী একটি পাচক রস। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। তাছাড়াও এটি ত্বকের জন্য উপকারী।

2. টক দই 

দ‌ই - এ ল্যাকটোবাসিলাস , অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মত কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া রয়েছে  যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে ও খারাপ ব্যাকটেরিয়া দের নাশ করেপ্রতিদিন খাওয়ার পর টক দই খাওয়ার অভ্যেস করুন। এতে খাবার যেমন হজম হবে তেমন অ্যাসিডিটির সমস্যা ও দূর হবে।

3. পেঁপে 

পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক এনজাইম যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত পেঁপে খেলে গ্যাসের সমস্যা কম হয় । পেঁপে কাঁচা - পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায় দুটোতেই উপকার পাওয়া যায় ।

4. পুদিনা পাতার জল

ক কাপ জলে পাঁচটা পুদিনা পাতা ভিজিয়ে খান। পেট ফাঁপা বমি ভাব সারাতে এর বিকল্প নেই।

5. লবঙ্গ

-৩ টি  লবঙ্গ মুখে দিয়ে চুষলে একদিকে বমি বমি ভাব বুক জ্বালা ঠিক হয় । একই সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধ‌ ও দূর হয়।

6.  আদা

গ্যা হলে এক কুচি আদা লবণ দিয়ে চিবিয়ে বা চুসে খান । খাবারে আদা যোগ করলে বা কিছুটা পরিমাণ আদা চিবিয়ে রস খেলে গ্যাসের সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়।

7. কলা 

যারা বেশি লবণ খান তাদেরকে এসে পেটের হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে । সারাদিনে অন্তত দুটি কলা খান পেট পরিষ্কার করার জুড়ি মেলা ভার। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম যা শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের সমান মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে । কলা হজমেও সাহায্য করে ও পেট থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়।

8. আমলা বা আমলকি

মলকি কেটে কুচি কুচি করে রৌদ্রে শুকিয়ে খান। গ্যাস ও বদহজম জনিত সমস্যা এটি খুব উপকারী।

9. শসা

পেট ঠান্ডা রাখতে বেশি কার্যকরী হলো শসা । কাঁচা শসা হজমেও সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ সিলিকা ও ভিটামিন সি। যা দেহের ওজন কমাতেও আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করে।

নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ।

10. জিরে 

 জিরে পেটের গ্যাস, বমি, পায়খানা, রক্তবিকার প্রভৃতিতে অত্যান্ত কার্যকরী একটি উপাদান ।

Bonus : জল 

লের বহু গুণ। প্রতিদিন সকালে উঠে খালি পেটে দুই গ্লাস করে জল পান করবেন। দেখবেন সারাদিন আর গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সইতে হবে না। কারণ জল হজম শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকরী। তাছাড়াও জল পরিপাকতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন কোন ব্যাপার নয়। শুধু নজর রাখতে হবে নিজের খাওয়া দাওয়ার দিকে । উল্লেখিত খাবার গুলোর সঙ্গে আঁশ যুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়া শুরু করুন দেখবেন আপনার আর গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে হবে না । কিনতে হবে না ওষুধ এবং সাশ্রয় হবে আপনার উপার্জিত অর্থ ।

আপনি আরও পড়তে পারেন, চুল পড়া বন্ধ করার 10 টি খুব সহজ ঘরোয়া উপায়

disclaimer : আমাদের এখানে উল্লেখিত সমস্ত রকম "চুল পড়া বন্ধ করার সহজ ঘরোয়া উপায়" সম্বন্ধে  আমরা অনলাইনের বিভিন্ন সাইটের সাহায্য নিয়েছি। যা ঘরোয়া ব্যাবহারে আপানার উপকারে আসবে। আপনার যদি খুব সিরিয়াস চুল পরার লক্ষণ দেখা দেয়, সময় নষ্ট না করে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা এই ১০টি উপায়ের সুফল  বা কুফল কোনও কিছুর জন্য দায়ী নই।

কেমন লাগলো আপনার আমাদের প্রতিবেদন ? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের facebook page ফলো করতে ভুলবেন না। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যদি আপনার ভালো লেগে থাকে। আর যেকোনো নতুন পোস্ট বা আর্টিকেল এর ইমেইল নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন। ক্লিক করার পর আপনার নাম ও ইমেইল দিয়ে সাবমিট করে দেবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ