9 mega brands bankruptcy in the world (bengali)

 বড় সেই ব্রান্ড গুলো কোথায় হারিয়ে গেল ?

ব্যাবসায়িক সফলতার পাশাপাশি ছিল তাদের বিশ্বজুড়ে নাম খ্যাতি। কিন্তু দূরদর্শিতার অভাব এবং অসততা, যুগোপযোগী কোন পদক্ষেপ না নেয়া ইত্যাদি কিছু কারনে  কালের অতলে হারিয়ে গেছে নামিদামি সেই ব্র্যান্ডগুলো।


একসময় কোটি কোটি ডলার আয় ও বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকা সত্বেও  কিছু ব্যবসায়ী অসততা ও অব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ড এবং কম্পানিগুলি কালের অতলে হারিয়ে যায়।  

কালের অতলে হারিয়ে যাওয়া সেই রকমই দশটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড ও কোম্পানি কথা আজ আমরা এখানে তুলে ধরব। অবাক হলেও সত্য, এদের মধ্যে রয়েছে ক্যামেরার জগতের বাদশা কোডাক। পিসি প্রস্তুতকারক কম্প্যাক। আমেরিকার এয়ার লাইন প্যান অ্যাম।

তাহলে আর দেরি কেন ?

চলুন চটজলদি দেখে নিন কালের অতলে হারিয়ে যাওয়া  মেগা ব্রান্ড।

কোডাক 


আমরা একসময় ক্যামেরা ও ফিল্ম তৈরীর কোম্পানি বলতে কোডাক ই ভাবতাম। কারণ প্রায় 100 বছরেরও বেশি সময় ধরে, পুরো বিশ্বে ক্যামেরা ও ফিল্ম  বিক্রেতা হিসেবে একচ্ছত্রভাবে রাজত্ব করে গেছে। সাধারণ মানুষের কাছে এই কোম্পানিটি পৌঁছে দিয়েছিল ছবি তোলার সুখ।

 সাল 1888 সালে প্রতিষ্ঠিত কোডাক 1970 দশকে ঘটিয়েছিল ডিজিটাল ক্যামেরার বিপ্লব। কিন্তু তারা প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা আবিষ্কার করলেও  বিক্রির দিকে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। এবং অন্যান্য কোম্পানি ডিজিটাল ক্যামেরার দিকে ঝুকে যায়।

এরই মধ্যে বিশ্ব বাজারে চলে আসে স্মার্টফোন। দিনদিন স্মার্টফোন আরও শক্তিশালী হতে থাকে। অন্যদিকে ছবি প্রিন্ট করার প্রয়োজনীয়তা কমে আসে কারণ ততদিনে মানুষ ছবি কম্পিউটারে ও মোবাইলে দেখতেই বেশি পছন্দ করতে শুরু করে। তাছাড়া গুগল সহ অন্যান্য অনেক কোম্পানি অনলাইন ছবি সংরক্ষণ করার সুবিধাও দিয়ে দেয়।

আর এই সব কারনেই  প্রবল মন্দার মুখে পড়ে কোডাক। 2012 সালে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে 123 বছরের পুরনো ব্যবসা বন্ধ করে দেয় তারা।

তারপর আমেরিকা সরকারের কাছ থেকে 76  কোটি 50 লক্ষ ডলার ঋণ নিয়ে নতুন করে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলে আর কোডাকের এখন এটাই হলো প্রধান ব্যবসা।

কম্প্যাক


সালটা 1982 পার্সোনাল কম্পিউটার মানে পিসি প্রস্তুতকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কম্প্যাক (compaq)। তখন IBM এই সেক্টরে এক বিশাল সাম্রাজ্য। বাজারে এরকম প্রবল প্রতিপক্ষ থাকা সত্ত্বেও মাত্র চার বছরের মধ্যে দুর্দন্ত  কিছু পোর্টেবল কম্পিউটার  ও পিসি অ্যাক্সসারিস  প্রডাক্ট তৈরি করে ফরচুন 500 কোম্পানির তালিকায় চলে আসে।

কিন্তু তারাও কিছু ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিল। 1998 সালে 960 কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্পোরেশনকে কিনে নেয় তারা। 

1999 সালে এই কারণে তাদের প্রডাক্টের বিক্রি  কমে যায়। ততদিনে বাজারে চলে আসে নতুন কোম্পানি dell।  বিক্রি আরো কমতে থাকে।  লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে। 

তখন বাধ্য হয়েই 2002 সালে আড়াই হাজার কোটি ডলারে HP এর  কাছে বিক্রি হয়ে যায়।  কিন্তু HP কম্প্যাক এর অধিগ্রহণের  পর কোম্পানির প্রোডাক্ট আলাদাভাবেই বিক্রি করতে থাকে।

 তবে 2013 সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে HP Compaq এর সমস্ত প্রডাক্ট  বিক্রি বন্ধ করে দেয় এবং ব্র্যান্ডও বন্ধ করে দেয়।

লেহমান ব্রাদার্স


2007-8 এর মার্কেট ক্রাইসিস সম্বন্ধে আমরা অনেকেই জানি। এই ক্রাইসিস এর ফলে পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছিল। তবে এতে সবথেকে বড় শিকার হয় 1847 সালের প্রতিষ্ঠিত দেড়শ বছরের পুরনো কোম্পানি লেহমান ব্রাদার্স। 1994 সাল থেকেই লোকসান বহন করতে করতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। 2008 সালের সেপ্টেম্বরের দিকে লেহমান ব্রাদার্স নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করতে আদালতের দ্বারস্থ হন  তখন বিশ্বব্যাপী তাদের 64 হাজার কোটি ডলার সম্পদ ছিল। বিপরীতে 61হাজার কোটি ডলার দেনাও ছিল।

প্যান অ্যাম


আমেরিকার
PAN American airlines (প্যান অ্যাম) ছিল একটি মর্যাদাশীল বিমান সংস্থা। কিন্তু কিছু ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাজারের চাহিদার তুলনায় নিজেদের বিমান রুট বড় করা এবং জ্বালানির দাম বাড়ায় 1980 থেকে ব্যাপক চাপে পড়ে । ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যান অ্যাম টানা লোকসানের মুখে নিউইয়র্কে নিজেদের ভবন সহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তার ওপর ১৯৮৮ সালে panam এর একটি বিমান স্কটল্যান্ডের বোমা হামলার শিকার হয়। বিপর্যয় সঙ্গে লোকসান ইত্যাদির কারনের জন্য না পেরে শেষে ১৯৯১ সালে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষনা করে কোম্পানিটি।

ব্লকবাস্টার


ব্লকবাস্টার !!

সত্যিই তারা ব্লকবাস্টার। পৃথিবীতে নয় হাজারের বেশি স্টোর বা শাখা খুলে বিভিন্ন ইন্টারেস্টিং ভিডিও ভাড়া দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছিল ব্লকবাস্টার।

1985 সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের করপোরেট মালিকানাধীন কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় ব্লকবাস্টার। তরুণদের কাছে প্রবল জনপ্রিয় হয়েও ওঠে। শনিবার রাতে ব্লকবাস্টারের যেকোনো স্টোর তরুণদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠত।

কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠে বিভিন্ন CD DVD ভাড়া দেওয়ার ব্যাবসা। অন্যদিকে ব্লকবাস্টার নতুন করে আর বিনিয়োগ বাড়াতেও পারে না। এই করে ব্লকবাস্টারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে।

তবে ব্লকবাস্টার সবচেয়ে বড় সমস্যায় পরে নেটফ্লিক্সের আবির্ভাবের পর।

২০১০ সালে ব্লকবাস্টার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনা করে। আর ২০১৩ সালে ব্লকবাস্টার নিজেদের সমস্ত শাখা বন্ধ করে দেয় ।

বর্ডারস বুকশপ


সালটা 1971 । বুকশপ চেইন বর্ডারস যাত্রা শুরু করেছিল ক্রেতাদের জন্য ক্যাফে খুলে। তারপর ধীরে ধীরে ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বই, গান অথবা সিনেমা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানার সুযোগও করে দিয়েছিল গ্রাহকদের।কিন্ত এতো কিছুর পরেও এরকম একটি গ্রাহকবান্ধব টিকে থাকতে পারেনি।

Borders bookshop 2009 সালে প্রথমে যুক্তরাজ্য ও পরে 2011 সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে ও বন্ধ হয়ে যায়।

অথচ তখন borders ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খুচরা বই বিক্রেতা। বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা ও ডিজিটাল মাধ্যমে ইবুক পড়ার সুযোগ বর্ডারস বুক শপের টিকে থাকা অনেক কঠিন করে দেয়।

বিশেষ করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন অনলাইনে বই বিক্রি শুরু করায় বর্ডারস বুকশপের পক্ষে আর টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।

টয়েজ আর আস


সব কম্পানি চায় তাদের বিক্রি ক্রমবর্ধমান ভাবে বারতেই থাকুক। আর তার জন্য সবাই নিজেদের শাখা দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শাখা অপ্রয়োজনীয় হলেও যদি শাখা তৈরি করা হয়, তবে কি হয় তার উদাহরণ ToysRus। অনেকগুলো শাখা খোলার কারণে বিপাকে পড়তে হয়েছিল খেলনা বিক্রেতা ToysRus। কারন তাদের আয়ের থেকে ব্যায় বেশি হয়ে গেছিল।

বেশি বেশি শাখা খোলার ফলে 2017 সালে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষিত হয়। ও 2018 সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ToysRus সব স্টোর বন্ধ করে দেয়। তবে এশিয়ার স্টোরগুলো অবশ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিনে নিয়ে চালু রাখে।

এনরন


1985 সালে প্রতিষ্ঠিত এনরন করে ছিল এক জালিয়াতি। 2001 সালে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি এনরনের জালিয়াতি সবার প্রকাশ্য চলে আসে। ফলে ওই বছর মানে 2001 সালেই কোম্পানিটি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্তে জালিয়াতি ধরা পড়লে তারা ১৯৯৭ সাল থেকে হিসাব ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর কথা স্বীকার করে নেন ।শেষে ২০০৮ সালে শেয়ারহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীরা এনরন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে প্রতারণার মামলা করেন।

উলওয়ার্থ



Woolworths একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা ছিল। কিন্তু কর্মদক্ষতায় দুর্বলতা ও গতিশীলতার অভাবে কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি।

1997 সালে উলওয়ার্থের সব স্টোর বন্ধের ঘোষণা করা হয়। কারণ, কোম্পানিটি যা আয় করছিল, তার চেয়ে তাদের খরচের পরিমাণ বেশি ছিল।

**ALL LOGO & BRAND NAME USE IN THIS BLOG IS COPYRIGHT THERE RESPECTIVE OWNER

 আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে

 ' ফলো করুন '
এবং আপনাকে আরো ভালো পরিষেবা দিতে নিচের ফর্মে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ